ঢাকা , ১৯ ২০২০
Crickpost

শুভ জন্মদিন মি. ডিপেন্ডেবল

আরিফুর রহমান | ৯ মে, ২০২০ ৯:২০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট : ৯ মে, ২০২০ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ

 

আকাশে লক্ষ তারা, চাঁদ কিন্তু একটাই! বাংলাদেশ ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিম চাঁদের মতোই জ্যোৎস্নার আভায় মোহিত করা এক নাম। খরা, উত্তাপ কিংবা রুক্ষতা পুড়িয়ে ছাই নয় বরং ‘চাঁদের কপালে টিপ পরিয়ে’ খোকাকে খুশি করা এক মায়ের আস্থার নাম।

২০১৫ সালের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটে মুশফিকের বীরদর্পে ছুটে চলা অনেকটা হেক্টর-একিলিসের মতোই অপ্রতিরোধ্য। শত্রু শিবিরে তার প্রতিটি আক্রমণই মরু সাইমুম সৃষ্টিকারী প্রলয়ংকরী। মুহূর্তেই বিশাল স্কোরের বিরুদ্ধে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে এফোঁড়-ওফোঁড় করে জয় ছিনিয়ে আনা যোদ্ধার মতোই প্রলয়ঙ্করী।

তার তীক্ষ্ণ তরবারি বদলে দেয় যুদ্ধের ফল, হাসির আভা ছড়ায় লাল-সবুজের ভূখণ্ডে। অথচ মুশফিক সৃষ্টির মূল্যে রয়েছে উত্থান-পতন ও সফলতা-ব্যর্থতার গল্প। ব্যাট উঁচিয়ে, কখনোবা মাথা নিচু করে প্যাভিলিয়নে ফেরার গল্প।

সেই ২০০৫ সালে যখন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন মুশফিকুর রহিম, তখন সমর্থকেরা তাকে সেভাবে গ্রহণ করেনি। খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে না থাকায় খালেদ মাসুদ পাইলটের বিকল্প হিসেবে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে জাতীয় দলে আবির্ভাব হয় তার। অনেকেই ভেবে বসেন, তৎকালীন ক্যাপ্টেন পাইলটকে সরাতে বোর্ডের কূটকৌশলের অংশবিশেষ তার আগমন।

ব্যাপারটা এমন ছিল যে, দর্শক, পত্র-পত্রিকার লেখালিখি চরম পুড়িয়েছে তাকে। যদিও বছর না ঘুরতেই সেই পোড়া মন ছাইয়ে রূপ না নিয়ে পরিণত হয়েছে সোনায়।

ইংল্যান্ডে নিজের অভিষেক সফরে এসেক্স ও নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৬৩ ও ১১৫ রানের দুই ইনিংস খেলে মুশফিক বুঝিয়ে দিয়েছেন কাউকে হটাতে নয় বরং নিজেকে রাঙাতেই তার জন্ম।

২০০৫ থেকে ২০১৫। এক যুগেরও বেশি সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভিস দেওয়া মুশফিকের অবস্থান সেই শুরুর মতো নেই। নিজেকে তিলে তিলে গড়েছেন। তাল লয় সূর ঠিক রেখে একের পর এক গান বুনছেন। ভোজবাজি কিংবা বুনো গান নয় বরং শরীর শিহরে ওঠা গানে বিমোহিত করেছেন সকলকে।

দায়িত্ববোধ আর লড়াকু মন এই দুইয়ের মিশ্রণে নিজেকে এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছেন যেখান থেকে দৃষ্টিগোচর কেবল সবুজের সমারহ-স্বপ্নের অট্টালিকা।

মুশফিকুর রহিম, যার কবজির জোর আর আত্মনিয়ন্ত্রণতার টাইমিংয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট কাননে ফুটছে অসংখ্য টিউলিপ।  যার ব্যাটে রচিত হচ্ছে অসংখ্য কাব্য উপন্যাস আর ইতিহাস! ভারত বধ থেকে লঙ্কা জয়। গলের সেই অমরত্ব এখনো ঝলমলে প্রতিটি বাঙালি, বাংলা ভাষাভাষীর মনকুঠিরে।

এসব অসম্ভব জয়ে আরও একটি গোপন ফর্মুলা ছিল পরিশ্রম। জাতীয় দলের সবচেয়ে বেশি অনুশীলন এবং পরিশ্রম করা ব্যক্তিটি মুশফিকুর রহিম।

মাঠে ক্রিকেট মৌসুম থাক বা না থাক, জাতীয় দলের সিরিজ থাক বা না থাক, মুশফিকুর রহিম ঠিকই আছেন। তাকে বলা হয় জাতীয় দলের ডিসিপ্লিনের আইকন। গেল বিশ্বকাপ শেষে যখন সবাই একটু ছুটি কাটাতে ব্যস্ত, তখনও মুশফিক ব্যাট হাতে ঘাম ঝরিয়েছেন ইনডোরে। কারণ, এর মনে তখনো জ্বলছিল না পাওয়ার বেদনা।

সতীর্থ তামিম তো বলেই দিয়েছেন একদিন, ‘আমার ছেলে যদি কখনো ক্রিকেটার হতে চায় তবে আমি বলবো আমাকে নয়,তুমি মুশফিককে অনুসরণ করো।’

জাতীয় দলের সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করা ক্রিকেটারের আজ জন্মদিন। ১৯৮৭ আজকের দিনেই মাহবুব হামিদ তারা ও রহীমা খাতুনের কোল জুড়ে পৃথিবী আলোকিত করে মিতু। ১৬ বছরের দাপুটে ক্যারিয়ার দিয়ে মিতু থেকে মুশফিকে পরিণত হওয়া লিজেন্ডের সাফল্য গাঁথা প্রতিচ্ছবিটা পরিসংখ্যান পাতায় পাওয়া যাবে।

কিন্তু আজ ওসব পড়ে থাক ‘ক্রিকইনফো’-তে। শুধুই বলতে চাই, শুভ জন্মদিন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। ভালোবাসা নেবেন। আপনার নাঙা তলোয়ারে ভর করে বাংলাদেশ জয় করুক বিশ্ব ক্রিকেট। এই কামনা।

img
/* Home Page Gallery Script Start */ /* Home Page Gallery Script End */