ঢাকা , ২৯ ২০২০
Crickpost

জন্মদিনের শুভেচ্ছা ‘খেয়ালী যুবরাজ’

আরিফুর রহমান | ২ মে, ২০২০ ১:৪৯ অপরাহ্ন | আপডেট : ৬ মে, ২০২০ ৫:৪৮ অপরাহ্ন

‘খাও, দাও, ফুর্তি করো’ ক্যারিয়ার জুড়ে ব্রায়ান লারার জীবনদর্শন ছিল প্রায় এরকমই। দিনে রেকর্ড ঠুকেছেন তো সন্ধ্যায় হাসপাতালের বেডে। সেখান থেকে রিলিজ না নিয়েই গভীর রাতে ছুট নাইট ক্লাবে।

এখানেই খামতি নেই বরং সারারাত মজা-মাস্তি শেষে পরেরদিন ঠিকই বাইশ গজে শাসাচ্ছেন কোনো হতভাগা বোলারকে। বোলারটিও তার বিরুদ্ধে বল করতে গিয়ে ক্লান্ত, হন্য হয়ে খুঁজছেন নানা প্রশ্নের উত্তর!

একবার তো মাঠে এমন এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন লারা, যা দেখে সতীর্থদের চক্ষু চড়কগাছ। অবাক বনে যান আম্পায়ার, গ্যালারি ভর্তি দর্শক।

ওয়ারউইকশায়ারে খেলার সময় স্লিপে দাঁড়ানো লারার পকেটে বেজে ওঠে রিংটোন। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ফোন বের করে কথা বলা শুরু করেন।

এছাড়াও টিম ম্যাট-বোর্ডের সঙ্গে সারাক্ষণই ঝামেলা লেগে থাকতো প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে। দেখা গেল টিম বাস থেকে নেমে সতীর্থরা মাঠে ঢুকছেন, লারার এন্ট্রি ঘণ্টা দেড়েক পর। আবার ফেরার সময়ও হোটেলে না গিয়ে সোজা ছুটতেন অন্য ঠিকানায়।

ব্রায়ান লারা তাঁর খামখেয়ালিপনা মনোভাবের কারণে জীবন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অনেক কিছুরই। সতীর্থ-বোর্ডের সঙ্গে একপ্রকার ‘সাইলেন্ট ওয়ার’ লেগে ছিল ক্যারিয়ার জুড়ে। তা না হয় লারা চেয়েছিলেন ক্যারাবীয়ানদের হারানো সুদিন ফিরিয়ে আনতে, সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে। কিন্তু পারেননি তিনি। পারেননি নিজের কারণেই। উল্টো বোর্ড আর ভাগ্যের সঙ্গে ধন্ধটাই বাড়িয়েছিলেন!

খামখেয়ালিপনা হলেও ঠিকই নিজের গায়ে আঘাত এলে বেপরোয়া হয়ে উঠতেন। যা একটি ঘটনা থেকেই স্পষ্ট ।

১৯৯৯ সালে জ্যামাইকা টেস্টের আগের দিন লারা সাবিনা পার্কে নেট প্র্যাকটিস করতে গিয়ে দেখেন অস্ট্রেলিয়ানরা সব নেট দখলে নিয়েছে। তার সুযোগ ছিল না প্র্যাকটিসের। তাতে রেগে মাঠ ছাড়েন লারা।

পরের দিনই দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নীরবে মেটান আগের দিনের জ্বালা। পরের টেস্টেও খেলেন অসাধারণ ইনিংস। আর সেই সিরিজে অ্যান্টিগার ম্যাচে তো রীতিমত ৮২ বলে তুলেন সেঞ্চুরি।

ক্রিকেট যেখানে ধ্যান-তাপস্য আর আরাধনার জায়গা, সেখানে লারার কাছে ক্রিকেট শুধুই খেলা। জেতার জন্য, নিজের জন্য খেলা। ক্যারিয়ার জুড়েই যে নিজেকে কন্ট্রোলে রাখতে পারেনি সে কি করে কন্ট্রোল করবে ক্রিকেট।

আর যদি সেটাই হতো, তবে অনেক গ্রেটদের কাতারে শীর্ষেই থাকতো তার নাম। তা না হয়, ক্রিকেটে গোটা দল মিলে ৫০০ যেখানে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার মতো ব্যাপার ছিল, সেখানে একাই ৫০১ কি করে করেছিলেন লারা?

যার ৫০১ তোলার মেন্টালিটি থাকে তার তো জীবন এবং ক্রিকেটের প্রতি আসক্ত থাকার কথাই বেশি । মাদকতা ছড়ানো ব্যাটিং, তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে দর্শকরা তাঁকে ততদিনই দেখেছে যতদিন লারা লড়েছেন স্ব-মহিমায়, শরীরে পড়েছে কারো খোঁচা।

লারা যুগে এই খেয়ালী গ্রেট কেমন ছিলেন তার একটি তথ্য দিচ্ছি। সে সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল পুরোপুরি তার উপর নির্ভর ছিল। একজন ব্যাটসম্যান একটা দলের কতটা সমার্থক হতে পারে? সেটা উদাহরণ না টানলে বুঝতে পারবেন না। লারার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোট রানের ২০% তার করা। এই ক্ষেত্রে তার উপরে আছেন মাত্র দুজন। একজন ব্র্যাডম্যান (২৩%)  এবং অন্যজন হলেন ব্ল্যাক ব্র্যাডম্যান খ্যাত জর্জ হেডলি (২১%)।

যাই হোক, জ্যান্টলম্যানের ক্রিকেটে জ্যান্টল হয়ে না থাকতে পারলেও ঠিকই আভিজাত্যের টেস্টে রেকর্ড ৪০০, ফার্স্ট ক্লাসে হানিফ মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে অপরাজিত ৫০১ রান দিয়েই অমর হয়ে থাকবেন লারা।

ক্যারিবিয়ান গ্রেটের মন্তব্য, ‘বাস্কেটবলে মাইকেল জর্ডান যা, বক্সিংয়ে মোহাম্মদ আলী আর ক্রিকেটে তোর চোখে সেরা শচীন টেন্ডুলকার।

যাই হোক, আজ 'ক্রিকেটের বরপুত্র' বনে যাওয়া ব্রায়ান চার্লস লারার শুভ জন্মদিন। ৫১ বছর পূর্বে ১৯৬৯ সালের ২ মে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মিচেল স্ট্রিট ক্যান্টারোতে জন্মগ্রহণ করেন -দ্য প্রিন্স অব ত্রিনিদাদ।

img
/* Home Page Gallery Script Start */ /* Home Page Gallery Script End */