ঢাকা , ২৯ ২০২০
Crickpost

হানিফ ইজ দ্য রিয়েল লিটল মাস্টার

| ১২ এপ্রিল, ২০২০ ১১:১১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট : ৪ মে, ২০২০ ৬:১৪ অপরাহ্ন

আরিফুর রহমান

টানা ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় মাটি আঁকড়ে উইকেটে পড়ে থেকে ক্রিকেট বিশ্ব নাড়িয়ে দিয়েছিল এক লিটল মাস্টার ব্যাটসম্যান হানিফ মোহাম্মদ। এরপর ইংল্যান্ড বোলারদের বিপরীতে তার ৫৫৬ মিনিটের ব্যাটিংও ইতিহাস সমৃদ্ধ।

সেই ১৯৬৭ সালের কথা। লর্ডসে ৯শ ৬০ মিনিটের ব্যাটিংয়ের পর দেশটির এক দৈনিকে ছাপা হয়েছিল, ‘অনলি দ্য পুলিশ ক্যান রিমুভ হিম,' সঙ্গে ছাপা হয়েছিল একটি কার্টুনও। যাতে দেখা যায় দুইজন পুলিশ উইকেট থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন হানিফকে ।

পাকিস্তানের সাদা শুভ্র জার্সি গায়ে ৫৫ টেস্টে ১২ সেঞ্চুরিতে তার গৌরব যেমন জ্বলমলে। তেমনি ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে অসামান্য দাপট ছিল হানিফ মোহাম্মদের। বিশ্ব ক্রিকেটে প্রথম ৪৯৯ রানের ইনিংসটি তিনিই খেলেছেন। পরবর্তী ৯৪ সালে ইংলিশ কাউন্টিতে ব্রায়ান লারা রেকর্ডটি ভাঙলেও বড় ইনিংসে অবদানের জন্য সবাই কিন্তু এই খর্বাকৃতির ব্যাটারকেই স্মরণ করে।

অবসর নেওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত ব্যাট হাতে তাকে দেখা মাত্রই জবুথবু বনে যেতেন স্ট্যাথাম-গিলক্রিস্টের মতো বিশ্বমানের পেসাররা (তৎকালীন)। তাদের আগুনে কামানের সামনে দাঁড়িয়ে রোজই ব্যাটিং সৌন্দর্য ছড়াতেন তিনি। তার শৈল্পিক ব্যাটিং হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো মাঠে টানত দর্শকদের। ছোট দেহের বড় কীর্তিমানব হানিফ মোহাম্মদরা ক্রিকেটের আইডল। আদর্শ হতে পারে বর্তমান যুগের প্লেয়ারদেরও।

মজার তথ্য কি জানেন, হানিফ মোহাম্মদ ছাড়াও ক্রিকেটে বড় সব কীর্তি-রেকর্ড খর্বাকৃতির ব্যাটসম্যানদেরই দখলে। সোবার্স, গ্রেগ চ্যাপেল, গ্রাহাম গুচ -এমন কয়েকজনকে বাদ দিলে তারকা ব্যাটসম্যানদের কেউই লম্বা নন।

সেই হানিফ মোহাম্মদকে দিয়ে শুরু। সুনীল গাভাস্কার হয়ে শচীন টেন্ডুলকারের গায়ে লেগেছে ‘লিটল মাস্টার’ তকমা। হানিফের আগে তালিকায় সর্বপ্রথম নামটি উচ্চারণ করা উচিত স্যার ডন ব্রাডম্যানের।

তবে ক্রিকেট ইতিহাসে আরও দু-একজনকে টুকটাক বলা হয়েছে, যদিও খুব উচ্চকিত কণ্ঠে নয়। ক্রিকেটে লিটল মাস্টার বলতে ওই তিন-চারজনকেই বোঝায়। তো এই তিন-চার মাস্টারের মধ্যে সত্যিকার লিটল মাস্টার কে? চিরন্তন বিতর্কের বিষয়।

বিশ্ব ক্রিকেটে ডন ব্র্যাডম্যান তো আজীবন ট্রেডমার্ক হয়ে থাকবেন তার ৯৯.৯৪ গড়ে রান তোলার জন্য। সেই ১৯৪৮ সালের ওভালে এই গ্রেট ম্যানের বিদায়ী ম্যাচে যদি এরিক হলিস দুর্ঘটনা না ঘটাতেন তবে আমৃত্যু কষ্ট বয়ে বেড়াতে হতো না ইংল্যান্ডের ক্রিকেট রাজাকে। 

তারপরও ক্রিকেট যতদিন আছে ততদিন এই গেইমের রাষ্ট্রদুত এবং সঠিক পথনির্দশক হয়ে থাকবেন তিনি।

এবার যদি নজরটা অন্যদিকে ফিরিয়ে নেই তবে খর্বাকৃতির ব্যাটসম্যান হিসেবে জ্বলজ্বল করবে ভারতীয় ক্রিকেট লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকারের নাম। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১০০ সেঞ্চুরির যে মাইলফলক তিনি গড়েছেন তা কে টপকে যায় সেটিই দেখার বিষয়। 

আর অর্জুন রানাতুঙ্গার কথা তো না বললেই নয়। ৯৯ এর বিশ্বকাপের আগে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটারের তালিকায় ছিলেন তিনি। সুতোয় ঝুলতে থাকা ম্যাচ কিভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায় তা ভালোই জানা ছিল তার।

img
/* Home Page Gallery Script Start */ /* Home Page Gallery Script End */